গো শব্দের অর্থ
বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘ একটি নদীর নাম গোমতী। কেউ কেউ লিখে থাকে ঘুমতী বা ঘোমতী। একই নামে ভারতেও একটি নদী রয়েছে। গোমতী শব্দের বুৎপত্তি হচ্ছে সংস্কৃত গো (জল)+ মৎ+ স্ত্রীবাচক ঈ। আমরা জানি গো শব্দের অর্থ গোরু, হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষে গো শব্দের ৩২টি অর্থ লিখেছেন, এর একটি হলো জল। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাশও তাঁর বাঙ্গালা ভাষার অভিধানে তাই লিখেছেন-
কথা হচ্ছে, গোমতী নাম কেন হলো? সকল নদীই জল দেয়, কিন্তু গোমতী নদীর জল খরস্রোতা, প্রাচীনকালে, একালেও মাঝে মাঝে গোমতীর জল পুরো কুমিল্লা জেলাকে প্লাবিত করে যায়৷ এই নদীটির সর্পিল গমন কুমিল্লা জেলার বিশাল অংশকে বেষ্টন করে রয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের একটি নদীর নাম গোদাবরী৷ এটি পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক নদী৷ গোদাবরী নামটিও গো বা জলের কারণেই হয়েছে। গোদাবরীর বুৎপত্তি দেখলে বিষয়টি সহজে বুঝা যাবে, সংস্কৃত গো (জল) + দা (দান করে) = গোদা (নদী)+ বর (শ্রেষ্ঠ) + ঈ (স্ত্রীবাচক)।
গোবর বলতে আমরা গোরুর বিষ্টাকেই বুঝি, কিন্তু গো শব্দের অর্থ যখন আকাশ, স্বর্গ, পৃথিবী মাটি হয় তখন গোবর কী কী অর্থ প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখে একবার ভেবেছেন কী?
গো (জল) + বর (শ্রেষ্ঠ) = গোবর;
গো (আকাশ) + বর (শ্রেষ্ঠ) গোবর;
এই দুই গোরবকে আমরা বৃষ্টি বলতে পারি৷
গো (পৃথিবী)+ বর = গোবর, এই পৃথিবী প্রদত্ত শ্রেষ্ঠগুলোর তালিকা করে কি শেষ করা সম্ভব? মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী বলে মানুষকেও কি গোবর বলা যাবে? বাংলা ভাষার প্রতিটি শব্দের বানান নির্ভুল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ৷ জ-কে য লিখলে উচ্চারণ হয়তো হয়ে যাবে, কিন্তু অর্থের বড় ধরনের তারতম্য এসে যাবে৷ গোমতীকে কখনো ঘুমতি লেখার সুযোগ নেই৷
পশুসজ্ঞাজাত 'গো' শব্দের আর এক অর্থ 'আলোক' বা 'আলোকরশ্মি', বা প্রকাশ রশ্মি '। এই অর্থে পদটির প্রয়োগ দেখা যায় কিছু ঋষির নামকরণে, যেমন, 'গোতম' অর্থাত্ উজ্জ্বলতম, 'গবিষ্ঠির' অর্থাত্ আলোক আকাশে স্থির জ্যোতি। বৈদিক 'গো-বৃন্দ' শব্দটি গ্রীস দেশের পৌরাণিক গাথার পরিচিত সত্য-জ্যোতি-জ্ঞান সূর্যের রশ্মি অর্থে ব্যবহৃত, ও 'গো যূথ' শব্দের সমান।
কথা হচ্ছে, গোমতী নাম কেন হলো? সকল নদীই জল দেয়, কিন্তু গোমতী নদীর জল খরস্রোতা, প্রাচীনকালে, একালেও মাঝে মাঝে গোমতীর জল পুরো কুমিল্লা জেলাকে প্লাবিত করে যায়৷ এই নদীটির সর্পিল গমন কুমিল্লা জেলার বিশাল অংশকে বেষ্টন করে রয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের একটি নদীর নাম গোদাবরী৷ এটি পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক নদী৷ গোদাবরী নামটিও গো বা জলের কারণেই হয়েছে। গোদাবরীর বুৎপত্তি দেখলে বিষয়টি সহজে বুঝা যাবে, সংস্কৃত গো (জল) + দা (দান করে) = গোদা (নদী)+ বর (শ্রেষ্ঠ) + ঈ (স্ত্রীবাচক)।
গোবর বলতে আমরা গোরুর বিষ্টাকেই বুঝি, কিন্তু গো শব্দের অর্থ যখন আকাশ, স্বর্গ, পৃথিবী মাটি হয় তখন গোবর কী কী অর্থ প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখে একবার ভেবেছেন কী?
গো (জল) + বর (শ্রেষ্ঠ) = গোবর;
গো (আকাশ) + বর (শ্রেষ্ঠ) গোবর;
এই দুই গোরবকে আমরা বৃষ্টি বলতে পারি৷
গো (পৃথিবী)+ বর = গোবর, এই পৃথিবী প্রদত্ত শ্রেষ্ঠগুলোর তালিকা করে কি শেষ করা সম্ভব? মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী বলে মানুষকেও কি গোবর বলা যাবে? বাংলা ভাষার প্রতিটি শব্দের বানান নির্ভুল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ৷ জ-কে য লিখলে উচ্চারণ হয়তো হয়ে যাবে, কিন্তু অর্থের বড় ধরনের তারতম্য এসে যাবে৷ গোমতীকে কখনো ঘুমতি লেখার সুযোগ নেই৷
পশুসজ্ঞাজাত 'গো' শব্দের আর এক অর্থ 'আলোক' বা 'আলোকরশ্মি', বা প্রকাশ রশ্মি '। এই অর্থে পদটির প্রয়োগ দেখা যায় কিছু ঋষির নামকরণে, যেমন, 'গোতম' অর্থাত্ উজ্জ্বলতম, 'গবিষ্ঠির' অর্থাত্ আলোক আকাশে স্থির জ্যোতি। বৈদিক 'গো-বৃন্দ' শব্দটি গ্রীস দেশের পৌরাণিক গাথার পরিচিত সত্য-জ্যোতি-জ্ঞান সূর্যের রশ্মি অর্থে ব্যবহৃত, ও 'গো যূথ' শব্দের সমান।

কোন মন্তব্য নেই